Google AdSense Ads

সাংবাদিকরা মামলার ভয় পায় না। ফেঁসে যেতে পারেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব। Bangla Official News
সাংবাদিকরা মামলার ভয় পায় না। ফেঁসে যেতে পারেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব। Bangla Official News

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় দীর্ঘ ছয় ঘন্টা আটকে রেখে হেনস্তা করা। এরপরে মধ্যরাতে থানায় নিয়ে মামলা দায়ের করা। রাত শেষ হয়ে সকাল হতেই পুলিশের বিশাল বহর আদালতে হাজির করা হলে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এমন সব ঘটনা ঘটেছে প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সাথে। প্রথম আলোর এই সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের একের পর এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে এসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির খবর। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহে করতে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মকর্তারা প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম এর সাথে করেন অসদাচরণ।

তবে এই বিষয়টিকে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি আড়াল করার জন্যই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মকর্তাদের এমন অসদাচরণ মনে করছেন সিনিয়র সাংবাদিকরা। তাদের মতে মামলা অথবা জেলের ভয় দেখিয়ে কখনো কোনো দুর্নীতির রিপোর্ট আটকে রাখা যায়নি। বাংলাদেশের পিআইবির চেয়ারম্যান আবেদ খান গণমাধ্যমকর্মীদের কে বলেন আমার মনে হয় এটা ইচ্ছা করে সাংবাদিকদেরকে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিপক্ষ বানানো হয়েছে। এ সময় তিনি আরো বলেন সরকারি কর্মকর্তাদের মাঝে আমলাতন্ত্রের কারাগার থেকে সবার আগে সরকারকে মুক্ত হতে হবে। দেশের সকল খাতের মন্ত্রীদেরও মুক্তি হতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার গোলাম রহমান বলেন প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম কে গ্রেফতার করার কারণে যদি এটা ধরে নেওয়া হয় যে সরকারিভাবে সাংবাদিকদের জন্য অসহনীয় সংকেত অথবা খারাপ সংকেত আমি এটা মনে করিনা। এ সময় তিনি আরো বলেন যদি তারা এটা মনে করে করেন তাহলে এটা করতে যে তারা খুবই কাঁচা কাজ করেছেন সেই সাথে তিনি আরো বলেন আমার যেটা মনে হয় দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের সাবধান হওয়ার সুযোগ এসেছে।

এদিকে সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকদের কে বলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির রিপোর্ট করতে যাওয়া রোজিনা ইসলাম কে ফাঁসানোর কারণ দেখানো হচ্ছে গোপন নথিপত্র ছবি তোলা এসময় তিনি আরো বলেন এখন যেটা বলা হচ্ছে যে গোপন নথিপত্র তথ্যের ছবি তোলার কারণ এই সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম কে হেনস্থা করা হয়েছে এবং মামলা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে এই গোপন নথিপত্র ছবি তোলার পর সেটা প্রকাশ করলে নাকি দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট হতো। এখন আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে কোন মন্ত্রণালয়ের গোপন নথিপত্র কি অফিস সহকারীর কাছে থাকে। সুতরাং এখানেই বোঝা যাচ্ছে যে প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম কে বিনা দোষে এবং অকারণেই ফাঁসানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মামলার দায় সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম গ্রেফতার হওয়ার কারণে মাঠের আন্দোলনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি এবং অনিয়ম নিয়ে আরো বিস্তর রিপোর্ট করার পরামর্শ দেন সিনিয়র সাংবাদিকরা। এসময় সিনিয়র সাংবাদিকরা বলেন এই করোনা কালীন সময়ে স্বাস্থ্য খাত অনেক বেশি আলোচিত তাই সেখানে তড়িৎ গতিতে এবং অনেক ইমারজেন্সিতে অনেক কাজ-কর্ম হচ্ছে তাই সেখানে প্রচুর পরিমানের দুর্নীতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এজন্যই তাই সেখানে ভালো করে অনুসন্ধান করা দরকার এবং এই অনুসন্ধানে অনেক দুর্নীতির খবর উঠে আসবে বলে সিনিয়র সাংবাদিকরা মনে করেন।

এ সময় তারা আরো বলেন আজকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির সংবাদ প্রচার করতে যাওয়ার কারণে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ করতেছে যে রোজিনা ইসলাম সরকারি আইন ভঙ্গ করেছে এখন আমাদের প্রশ্ন হল দুর্নীতির রিপোর্ট করতে যাওয়ার কারণে যদি একজন রিপোর্টার সরকারের আইন ভঙ্গ করে তাহলে স্বাধীন সাংবাদিককে রিপোর্ট অনুসন্ধান করতে সহযোগিতা না করে বরং তাকে আরও হেনস্থা করার কারণে তারাও সরকারি আইন ভঙ্গ করেছে এসময় সরকারকে আহবান করেন আমলাতন্ত্রের বলয় থেকে বেরিয়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানান সিনিয়র সাংবাদিকরা।

এদিকে রোজিনা ইসলামের আইনজীবীরা গণমাধ্যমকর্মীদের কে বলেন যে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে মামলা করতে গিয়ে নানা রকমের আইনে ভুল করেছেন এই মামলার বাদী আইনজীবীরা বলছেন যে অফিশিয়াল সিক্রেসি অ্যাড আর পেনাল কোডের দুটি ধারা কখনই একসাথে চলতে পারে না। তাই এই মামলায় বাংলাদেশের কারো শাস্ত্রীয় নজির নেই আইনজীবীদের মতে রাষ্ট্রীয় নথি সংরক্ষণ করতে না দেওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই মামলার আসামি করা উচিত ছিল। এসময় আইনজীবীরা সাংবাদিকদেরকে বলেন রাষ্ট্রের গোপন নথি গোপন করায় এবং অনুসন্ধানী রিপোর্ট করতে যাওয়ার সাংবাদিকদেরকে হেনস্তা করা ফেঁসে যেতে পারেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব। 

Bangla Official News


 

Post a Comment

Previous Post Next Post

Google AdSense Ads

Google AdSense Ads